মুন্সীগঞ্জে ৫৩২ বছরের ঐতিহ্যবাহী শেখরনগর কালীপূজা শুরু, ভক্তদের ঢল
![]() |
| সমকাল |
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার শেখরনগরে ইছামতী নদীর তীরে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রায় ৫৩২ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই পূজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় শেখরনগর ঋষি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলে গভীর রাত পর্যন্ত, এমনকি ভোর ৪টা পর্যন্ত পূজার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এরপর বুধবার ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে পাঁঠা বলির কার্যক্রম, যা এই পূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবার তিন হাজারেরও বেশি পাঁঠা বলি দেওয়া হতে পারে। প্রতিবছরের মতো এবারও এই বলি অনুষ্ঠান ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।
ঐতিহ্যবাহী এই কালীপূজার ইতিহাস সুদীর্ঘ। জানা যায়, বাংলা ৯০১ সন থেকে ইছামতী নদীর পাড়ে এই পূজা হয়ে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় এটি শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পরিণত হয়েছে একটি বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
পূজাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী মেলা। মেলায় শতাধিক স্টল বসেছে, যেখানে গৃহস্থালি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাঁশ ও কাঠের তৈরি আসবাব, কুটির শিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী, মিষ্টান্ন এবং প্রসাধনী দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, হর্স রেসসহ নানা ধরনের খেলাধুলার আয়োজন।
রাত যত গভীর হচ্ছে, মেলা প্রাঙ্গণে ততই বাড়ছে মানুষের ভিড়। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে উঠেছে।
শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেবব্রত সরকার টুটুল বলেন, “প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই মেলা ও পূজা আমাদের এলাকার ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিনের পূজা হলেও মেলাটি সপ্তাহব্যাপী চলে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রতন চন্দ্র দাস জানান, “প্রতিবছরই লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে এখানে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোর থেকে পাঁঠা বলি শুরু হবে এবং তিন হাজারের বেশি পাঁঠা বলি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে সিরাজদীখান থানার ওসি এম এ হান্নান বলেন, “পূজাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশসহ প্রায় ৩০০ জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
সবমিলিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন এই কালীপূজা ও মেলা শুধু ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি এখন একটি বৃহৎ সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি বছরই হাজারো মানুষের মিলনস্থল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।




.png)

%20.png)

No comments: